হুমায়ূন আহমেদ
১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ — ১৯ জুলাই ২০১২

জোছনা, বৃষ্টি আর সাধারণ মানুষের
অসাধারণ গল্পকার

বাংলা সাহিত্যের এক জাদুকর — যাঁর কলমে হিমু হেঁটে বেড়ায় হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে, মিসির আলি যুক্তি দিয়ে রহস্য ভাঙেন, আর মধ্যবিত্তের ছোট ছোট সুখ-দুঃখ হয়ে ওঠে অমর গল্প। এই পাতাটি তাঁর প্রতি একজন অনুরাগীর ছোট্ট শ্রদ্ধাঞ্জলি।

স্ক্রল করুন
হুমায়ূন আহমেদ
জীবনী

একজন রসায়নের অধ্যাপক থেকে
কোটি পাঠকের প্রিয় লেখক

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্ম নেওয়া হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন এবং পরে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় গড়ে ওঠে কলমের মাধ্যমে — ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে, যা সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

এরপর প্রায় চার দশক ধরে তিনি লিখে গেছেন উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, চিত্রনাট্য — মোট প্রায় তিনশতাধিক গ্রন্থ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, মধ্যবিত্ত জীবনের সরলতা, আর জোছনা-বৃষ্টির প্রতি তাঁর গভীর মমতা তাঁর লেখাকে করে তুলেছে অননুকরণীয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারের কাছে হার মানেন এই কিংবদন্তি, কিন্তু তাঁর গল্পেরা রয়ে গেছে প্রতিটি বাঙালি ঘরে।

৩০০+প্রকাশিত গ্রন্থ
২০+নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটক
১৯৭২প্রথম উপন্যাস প্রকাশ
১৯৪৮
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭২
প্রথম উপন্যাস "নন্দিত নরকে" প্রকাশিত হয়, যা তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দেয়।
১৯৭৩-৭৪
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে যোগদান।
৮০-৯০ দশক
হিমু, মিসির আলি সিরিজ ও জনপ্রিয় টিভি নাটকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
২০১২
১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে চিরবিদায় নেন এই কথাসাহিত্যিক।
সাহিত্যকর্ম

কালজয়ী কিছু উপন্যাস

১৯৭২
নন্দিত নরকে
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যাপিত জীবনের আনন্দ-বেদনার গল্প, তাঁর প্রথম ও অন্যতম আলোচিত উপন্যাস।
১৯৭৩
শঙ্খনীল কারাগার
পারিবারিক টানাপোড়েন আর সম্পর্কের জটিলতার সূক্ষ্ম বুনন।
১৯৮৭
মধ্যাহ্ন
গ্রামীণ জীবন ও কালের বিবর্তনকে গভীর মমতায় তুলে ধরা এক মহাকাব্যিক উপন্যাস।
১৯৯১
জোছনা ও জননীর গল্প
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ব্যাপ্তিময় রচনা।
১৯৯৩
শ্রাবণ মেঘের দিন
গ্রামবাংলার প্রেম আর বিষাদের কাব্যিক উপাখ্যান, পরে চলচ্চিত্রায়িত হয়।
২০০৮
দেয়াল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত ও সাহসী উপন্যাস।
গৌরীপুর জংশন
জীবনকে দেখার এক ভিন্ন, স্নিগ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি।
লীলাবতী
সহজ ভাষায় বলা জটিল মানবিক অনুভূতির গল্প।
প্রিয় চরিত্রেরা

যাঁরা পাতা থেকে নেমে এসেছেন বাস্তবে

হলুদ পাঞ্জাবির পথিক
হিমু
নিয়মহীন জীবনযাপন, খালি পায়ে হাঁটা আর যুক্তির বাইরে গিয়ে জগৎকে দেখার এক অননুকরণীয় চরিত্র — বাংলা সাহিত্যে এক নতুন জীবনদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তিবাদী মনোবিজ্ঞানী
মিসির আলি
অতিপ্রাকৃত মনে হওয়া রহস্যের পেছনে যুক্তি খোঁজেন এই চরিত্র। ধৈর্য আর বিশ্লেষণী মন দিয়ে তিনি বাংলা রহস্য-সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।
নির্মল দৃষ্টির তরুণ
শুভ্র
দৃষ্টিহীন হয়েও যাঁর ভেতরের চোখ সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ — সরলতা আর গভীরতার এক অসাধারণ মিশেল।
তাঁর জগতের কিছু অনুভব

জোছনা, বৃষ্টি আর সাধারণ জীবনের দর্শন

ব্যক্তিগত ব্লগ

পাঠকের চোখে হুমায়ূন আহমেদ

একজন অনুরাগী পাঠকের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও স্মৃতিচারণ — তাঁর বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে লেখা কিছু ছোট কথা।

তাঁর স্বপ্নের ঠিকানা

নূহাশপল্লী

গাজীপুরের পিরুজালীতে গড়ে তোলা তাঁর স্বপ্নের বাগানবাড়ি নূহাশপল্লী — যেখানে তিনি লিখেছেন অসংখ্য গল্প, বানিয়েছেন ছবি, আর কাটিয়েছেন নিজের মতো করে সময়। আজ এটি তাঁর স্মৃতির প্রতি অগণিত পাঠকের তীর্থস্থান, আর সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে — লিচু আর কাঁঠাল গাছের ছায়ায়, প্রকৃতির কোলে।